সোমবার, ০৬ Jul ২০২৬, ০৮:০৮ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : করোনার প্রকোপ এড়াতে ফেনীতে সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উদযাপনের আয়োজন সীমিত করা হয়েছে। এজন্য এবার ফেনীতে হচ্ছে না মেলা, শোভাযাত্রা, আরতি এমনকি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও।
তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মন্দির প্রাঙ্গণে পূজা ও সব আচারবিধি পালন করা হবে। প্রতিটি মন্দিরে থাকবে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হাত ধোয়ার জন্য থাকবে সাবান- পানির ব্যবস্থা। বিতরণ করা হবে মাস্ক। পুরোপুরি স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবারের উৎসব হবে জৌলুসহীন। এমনটাই জানিয়েছেন ফেনী জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ।
রোববার (১১অক্টোবর) ফেনী শহরেরর জয়কালী মন্দিরে গিয়ে কথা হয় পূজা উদযাপন পরিষদের নেতা ও পুরোহিতদের সঙ্গে। তারা জানান, প্রতিবার ফেনী জেলায় ১৪২টি পূজামণ্ডপ তৈরি করা হলেও এবার কমিয়ে ১৩৬টিতে উদযাপন করা হবে দুর্গাপূজা।
আর মাত্র কয়েকদিন পরই শুরু হচ্ছে দুর্গাপূজা। মণ্ডপগুলো আকর্ষণীয় করে তুলতে ব্যস্ততার সীমা থাকতো না। কিন্তু এবার চলমান করোনা পরিস্থিতি সবকিছুই মলিন করে দিয়েছে। ধর্মীয় এ উৎসবটির সব কিছুতেই কাটছাঁট করা হয়েছে। নেই তেমন কোনো ব্যস্ততা। নেই তেমন সাজ-সজ্জা। প্রতিবারের মতো মণ্ডপ সম্মুখে দৃষ্টি নন্দন গেট নির্মাণের দৃশ্যও চোখে পড়ছে না।
জয়কালী মন্দির কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফেনী জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি লিটন সাহা বাংলানিউজকে বলেন, ২১ অক্টোবর দেবী দুর্গার বোধনের মাধ্যমে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ২২ অক্টোবর ষষ্ঠীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুরু হবে মহাসপ্তমী পূজা। এরপর মহাঅষ্টমী, কুমারী পূজা, মহানবমী ও দশমী পূজা শেষে ২৭ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।
লিটন সাহা আরও জানান, গত বছর এমন দিনে মণ্ডপে সাজ-সজ্জার কাজে সবাই ব্যস্ত সময় পার করত। চোখ ধাঁধানো লাইটিং আর বিলাসবহুল ফটক মণ্ডপে আগ্রহী করে তুলত ভক্তকুলকে। কিন্তু এবার তেমন কিছুই করা হচ্ছে না। মহামারিকালে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা করতেই সবকিছুকে একেবারেই সীমিত করা হচ্ছে।
জয়কালী মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার দাস বলেন, এবাবের পূজায় থাকবেনা কোনো ধরনের জৌলুসতা, থাকবেনা আরতি, ডেকোরেশন এবং কি অতিরিক্ত লাইটিংও দেখা যাবে না। মন্দিরের ভেতরে মাস্ক বিতরণ করা হবে। শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব মানার ব্যাপারে ভক্তদের আহ্বান করা হবে।
ফেনী জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্রশীল জানান, এবার শুধুমাত্র আমাদের পূজার পর্বটাই হবে। বাহ্যিক আনন্দ, সাজ-সজ্জা, আলোক-সজ্জার পরিধি সীমিত করা হয়েছে। মণ্ডপগুলোতে বাজেট গতবারের তুলনায় অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে। করোনার কারণে সকলকে নিরুৎসাহিত করতেই কেন্দ্রীয় নির্দেশনার আলোকে জেলা কমিটি থেকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রাজিব খগেশ দত্ত জানান, এবার ফেনীতে মণ্ডপের সংখ্যাও কমে গেছে। গত বছর জেলায় ১৪০টি মণ্ডপে পূজা উদযাপন করা হয়েছে। কিন্তু এবার চারটি কমিয়ে ১৩৬টি মণ্ডপে সীমিত পরিসরে পূজার আয়োজন করা হচ্ছে।
তিনি জানান, ফেনী সদর উপজেলায় একটি মণ্ডপ বাড়িয়ে ৪৬টি মণ্ডপে পূজার প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া পূর্বের ন্যায় ফেনী পৌরসভায় ১১টি, দাগনভূঞায় ১৮টি, সোনাগাজীতে ২২টি, ছাগলনাইয়ায় ৫টি, পরশুরামে ৬টি পূজার জন্য মন্ডপ তৈরি হচ্ছে। এছাড়াও ফুলগাজী উপজেলায় মন্ডপের সংখ্যা ৩৩ থেকে কমিয়ে ২৯টিতে নিয়ে আসা হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলার ১৩৭টি মণ্ডপের জন্য ৫০০ কেজি হারে চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এছাড়াও জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ থেকেও পূজার ধরণ ও সার্বিক বিষয় নিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাবেন বলে জানিয়েছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের এ নেতা।
প্রিয় লাল নামের এক প্রতিমা কারিগর জানান, এবার প্রতিমা তৈরিতেও পরিবর্তন এসেছে। বিভিন্ন থিমের পূজার ধারণা বদলে গেছে। মন্দিরগুলো মাঝারি পূজায় মন দিয়েছে। কমিয়ে দিয়েছে প্রতিমার উচ্চতা। ১৫ ফুট থেকে কমিয়ে আনা হয়েছে ৮-১০ ফুটে। এবার ৭০ শতাংশ প্রতিমা নির্মাণ হচ্ছে ছোট আকারে।
ফেনী জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুজজামান বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে সরকার যে শর্তগুলো মেনে পূজা পালন করতে বলেছেন সেসব মেনেই দূর্গাপূজা পালন হবে বলে জানিয়েছেন তারা। জেলা প্রশাসক আরো জানান, মন্দিরগুলোর নিরাপত্তার ব্যাপারে পূর্বের বছরের ন্যায় এবারও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
রাজিব আশ্চার্য নামের এক পুরোহিত বলেন, এবারের পূজায় মায়ের কাছে প্রার্থনা থাকবে তিনি যেন পুরো পৃথিবীর মানুষকে সকল অমঙ্গল থেকে রক্ষা করেন। বিশেষ করে অজানা ব্যাধি থেকে যেন মানুষ রেহাই পায়।
নগরকন্ঠ.কম/এআর